Close

লাইকি থেকে টাকা ইনকাম করার ৬ টি কৌশল – Likee থেকে ইনকাম

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সোসাল নেটোয়াকিংস সাইট হলো লাইকি। টিকটকের মতোই এখন লাইকিও বেশ জনপ্রিয়। টিকটক, লাইকি এই জাতীয় এপস এর মাধ্যমে যেকোন ব্যাক্তি সহজেই ভিডিও শেয়ার করে নিজেকে ভাইরাল করতে পারে ও পপুলার হতে পারে। এখন এটা শুধু বিনদোনের জন্যই সীমাবদ্ধ নয়। লাইকি থেকে টাকা ইনকাম করার সুযোগও রয়েছে।

আপনার বিনোদনের পাশাপাশি যদি একটা বাড়তি আয় থাকে, সেটা তো বেশ সুখবর বটে। হ্যা, আপনি অবশ্যই লাইকি থেকে টাকা ইনকাম করতে পারেন। অনেকেই জানে না যে, লাইকি থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়! আজকে আমরা আলোচনা করতে যাচ্ছি কিভাবে Likee থেকে ইনকাম করা যায়, তার উপর বিস্তারিত বর্ণনা। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

লাইকি থেকে টাকা ইনকাম

সব থেকে জনপ্রিয় অ্যাপ টিকটক থেকে টাকা আয় করার কথা আমরা অনেকেই জানি। বর্তমানে লাইকি থেকেও কিন্তু টাকা আয় করা যায়, সেটা অনেকের কাছেই অজানা। লাইকি অ্যাপে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফিচার রয়েছে, যা ব্যবহার করে খুব সহজেই আপনি অল্প সময় ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করতে পারেন। আর এই ভিডিওগুলোই হলো আপনার কন্টেন্ট। ভালো কোয়ালিটির কন্টেন্ট দিয়ে আপনার জনপ্রিয়তা বাড়ায়ি লাইকি থেকে টাকা ইনকাম করতে পারেন। লাইকি থেকে আপনার আয় ২০ ডলার হলেই, টাকা তুলতে পারবেন।

যদি আপনি লাইকি থেকে টাকা ইনকাম করতে চান, তাহলে আজকের পোস্টটি আপনার জন্য অনেক কার্যকর হবে। আমাদের আজকে পর্বটি সাজানো হয়েছে লাইকি থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়, সেই বিষয়ে একটু পূর্ণ আলোচনা নিয়ে।

Read More: মোবাইলে অনলাইনে আয় করার সেরা ৫টি ওয়েবসাইট

Likee থেকে ইনকাম করার কৌশল সমূহ

আজ আমরা লাইকি থেকে আয় করার ৬ টি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি। মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং আপনার সুবিধামতো কাজগুলো প্রথম দিকে শুরু করতে পারেন। মনে রাখবেন, যেকোন কাজেই প্ররিশ্রম ও সময় দেওয়া জরুরী।

১. Hashtag ব্যবহার করে ভিডিও শেয়ার করুন

হ্যাশট্যাগ হলো কোন বিষয়ে হাইলাইট করে সার্চ র‌্যাংকিং বৃদ্ধি করার একটি কৌশল। আপনি লাইকি ইউজার হয়ে থাকলে অবশ্যই হ্যাশট্যাগ বাটনটা অনেকবার দেখেছেন বা এই বিষয়ে জানেন। তবে আপনি হয়তো জানেন না যে, এর ব্যবহার কি? বা হ্যাশট্যাগ জিনিসটা কি? আপনার ভিডিওর ক্যাটাগরি ও বিষয়বস্তু তলে ধরে হ্যাশট্যাগ। ফলে ভিডিওটি সাজেস্টেড ভিডিও আকারে বা রিলেটেড ভিডিও হিসেবে দর্শকদের কাছে প্রদর্শিত হয়। এছাড়া এর ফলে কোন ভিডিও সার্চ করলে, তার র‌্যাংকিং বাড়ে।

অনেক কোম্পানী বা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তাদের নতুন পণ্য প্রমোশনের করার জন্য হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে। এবং তারা এই হ্যাশট্যাগের উপর বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড ঘোষনা করে। এছাড়া হ্যাশট্যাগের উপর ভিত্তি করে কোন ভিডিও অনেক ভিউ হলে লাইকি থেকে বোনাস হিসেবেও টাকা পাওয়া যায়।

আপনার যেকোন ভিডিও সর্বোচ্চ ভিউ অর্জন করতে পারলে, লাইকি কোম্পানী থেকে আপনি ৫০০ ডলার পর্যন্ত বোনাস পেতে পারেন। এই প্রাইজের মূল্য আপনার লাইকি ওয়ালেটে যু্ক্ত হবে, যা পরবর্তীতে আপনি আপনার ব্যাংক একাউন্ট বা বিকাশে টাকা তুলতে পারবেন।

যদি প্রতিমাসে আপনি ৩/৪ টি হ্যাশট্যাগ কম্পিটিশনে যোগদান করে এবং পর্যাপ্ত ভিউ সংগ্রহ করতে পারেন তাহলে আপনার আয় অনেক বেড়ে যাবে।

২. Live ভিডিও করুন

লাইকি অ্যাপে লাইভ ভিডিও ফিচারটি অনেক জনপ্রিয়, যার মাধ্যমে আপনি সরাসরি ভিডিও হোস্ট করতে পারবেন। এবং এর মাধ্যমে আপনি টাকাও ইনকাম করতে পারবেন। সাধারণত নতুন ইউজার লাইভ ভিডিও করার অনুমতি পায় না। আপনার লেভেল যখন ৩৫ পূর্ণ হবে, আপনি তখনই লাইভ ভিডিও করার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

সঠিকভাবে কাজ করতে হলে আপনাকে প্রতিদিন লাইভে আসতে হবে এবং দর্শকদের পছন্দ অনুযায়ী কাজ করতে হবে। তাদের বিনোদন দেওয়াটাই মূলক কাজ। তারা আপনার ভিডিও পছন্দ করলে, আপনাকে কোন উপহার প্রদান করবে। আপনি ঐ উপহারকে টাকায় রুপান্তরিত করতে পারবেন।

প্রত্যেকিটি উপহারের জন্য আপনি ১ ডলার থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন। যতি বেশি লাইভ ভিডিও করতে পারবেন,  তত বেশি উপহার পাবেন ও টাকা আয় করতে পারবেন।

৩. স্পন্সর ভিডিও করুন

বর্তমানে যেকোন সোসাল মিডিয়ায় স্পন্সারশীপের মাধ্যমে আয় করাটা একটা কম বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন কোম্পানী বা ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য প্রচারের জন্য এখন লাইবি ও টিকটকের মতো ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফরম বেছে নিচ্ছে। এই কোম্পানীগুলো ভালো কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদে খুজে, যাদের জনপ্রিয়তা বেশি।

আপনি ভালো কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হলে ও আপনার অনেক ফলোয়ার থাকলে ঐ কোম্পানীগুলো স্পন্সার করবে তাদের পণ্য প্রমোশনের জন্য। অর্থাৎ আপনার মাধ্যমে তাদের পণ্যের বিজ্ঞান দেওয়া হবে, যা আপনার ফলোয়ারগন দেখতে পাবে।

তাদের স্পন্সারের বিনিময়ে আপনি তাদের পণ্য প্রমোশন করবেন। এক্ষেত্রে আপনি ১০০ ডলার থেকে ১০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

Related Post: ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করার ৭টি কৌশল

৪. Crown ব্যবহার করে টাকা ইনকাম করুন

লাইকি অ্যামে আপনার জনপ্রিয়তার উপর ভিত্তি করে মুকট (Crown) প্রদান করা হবে। এটা অনেকটা লেভেল সিস্টেম। আপনার ফলোয়ার বেশি হলে আপনার মুকুটের ধরন পরিবর্তন হবে। লাইকিতে সাধারণত তিন ধরনের (Crown) প্রদান করা হয়।

যেমন:

  • K1 Crown: আপনি যদি K1 Crown বা ১ হাজার মুকুট লাভ করেন তাহলে আপনাকে লাইকি থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪০০ ডলার প্রদান করা হবে।
  • K2 Crown: আপনি যদি K2 Crown বা ২ হাজার মুকুট লাভ করেন তাহলে আপনাকে লাইকি থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ ডলার প্রদান করা হবে।
  • K3 Crown: আপনি যদি K3 Crown বা ১ হাজার মুকুট লাভ করেন তাহলে আপনাকে লাইকি থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ ডলার প্রদান করা হবে।

অর্থাৎ আপনি ক্রাউন অর্জন করে লাইকি থেকে টাকা ইনকাম করতে পারেন। যেহেতু এটা ফলোয়ারের উপর ভিত্তি করে  অর্জন হয়, সেহেতু আপনি যতি বেশি ফলোয়ার সংগ্রহ করতে পারবেত তত দ্রুত ক্রাউন অর্জন করতে পারবেন। ক্রাউন অর্জন করতে পারলে প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট আয় থাকে।

৫. কম্পিটিশনে অংশ গ্রহণ করে টাকা ইনকাম করুন

কম্পিটিশন লাইকি অ্যাপের অন্যতম ফিচার! আপনি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কম্পিটিশনে অংশ গ্রহণ করে জয়ী হলে সহজেই টাকা আয় করতে পারেন। ছোট ছোট কিছু সহজ প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করতে হবে।

প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণের জন্য আপনাকে প্রথমে লাইকি অ্যাপের ড্যাশবোর্ডে যেতে হবে। তার পর মেসেজেস অপশনে যাবেন এবং সেখানে কন্টেস্ট নামক অপশন পাবেন। সিমেস্টমটা নিম্নরূপ:

Main Dashboard > Massages > Contest

কন্টেস্ট অপশনে যাওয়ার পর আপনার পছন্দ মতো যেকোন কম্পিটিশনে অংশগ্রহন করতে পারবেন। প্রতিটি কম্পিটিশনের কিছু নিয়ম আছে, সেগুলো ভালোভাবে পড়ে নিবেন। কন্টেস্টের রুল মেনে ভিডিও আপলোড করতে হবে। সঠিক হ্যাশট্যাগ দিয়ে, ভিডিও টাইটেল ও কভার সহ ভিডিও আপলোড করুন। একটি কম্পিটিশনে জয়ী হলে আপনি ১০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। 

Related Post: ক্যাপচা এন্ট্রি টাইপিং জব

৬. লাইকি অ্যাকাউন্টে বিক্রি করে আয়

টিকটক, ইন্সটাগ্রামের মতো লাইকি একাউন্ট বিক্রয় করেও টাকা উপার্জন করা যায়। বিভিন্ন কোম্পানী বা ব্যাক্তি অনেক ফলোয়ার সহ একটিভ লাইকি একাউন্ট কিনতে চায়। আপনার কোন একাউন্টে পর্যাপ্ত ফলোয়ার ও ভিডিও ভিউস থাকলে সেই একাউন্ট বিক্রয় করেও টাকা আয় করতে পারে। অনেক মিডিয়ায় আমি একাউন্ট বিক্রয়ের কাজ করতে পারেন। যেমন ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমেও একাউন্ট বিক্রি করা সম্ভব।

এছাড়া, লাইকি একাউন্ট বিক্রি করার জনপ্রিয় সাইট হলো-

এই জাতীয় ওয়েব সাইটগুলোতে আপনি ঢুকলেই বুঝতে পারবেন আপনার একাউন্টের মূল্য কেমন হতে পারে। এখনে আপনার জনপ্রিয় একাউন্ট বিক্রয়ের জন্য সাবমিট করুন। কোন ইউজার আপনার আইডি পছন্দ করলে, সে তার পছন্দের দামে বিট করবে অথবা আপনার নির্ধারিত দামে কিনে নিবে।

পরিশেষে

অল্প কিছু কৌশল জেনে ও ভালো মানের কন্টেন্ট তৈরি করে, সহজেই লাইকি থেকে আয় করতে পারেন। লাইকি ও টিকটক একইভাবে ব্যবহার করা যায়। এই দুই অ্যাপ থেকেই টাকা আয় করা যায়। তাই, লাইকি অ্যাপ থেকেই শুরু হতে পারে আপনার অনলাইন আয়ের ক্যারিয়ার

এছাড়া Likee থেকে ইনকাম করা বেশ উপভোগের বিষয় বটে। বিনোদনের পাশাপাশি একটা আয় দাড়াতে, সেটা মন্দ কিসে। আপনার ছোট ছোট ভিডিও থেকেই আপনি একাটা ভালো এমাউন্ট আয় করতে পারেন। তাই আর দেরী না করে, চেষ্টা করুন। ধন্যবাদ।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: