Close

ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করার ৭টি কৌশল

বর্তমানে ইন্সটাগ্রাম হলো একটি জনপ্রিয় সোসাল নেটোয়াকিংস ওয়েব সাইট, যার মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা যায়। মূলত এটা ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের আরো একটি মাধ্যম। ফটোগ্রাফার বা ডিজিটাল মার্কেটারগন ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে তাদের ব্যবসায়ের প্রসার ঘটাতে পারে। এটা শুধুই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম নয়, অনলাইনে আয় করারও একটি বড় সুযোগ রয়েছে।

Instagram থেকে আয় করার অনেক পদ্ধতি রয়েছে। কিভাবে ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করা যায়, আজকে আমাদের পর্বটি তার উপর ভিত্তি করেই সাজিয়েছি।

ইন্সটাগ্রাম কি?

ফেইসবুক, টুইটারের মতোই এটাও একটি সামাজিক নেটোয়াকিংস ওয়েব সাইট। এটার মাধ্যমে আপনার পছন্দের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করা যায়। আর এই জনপ্রিয়তাকেই কাজে লাগিয়ে টাকা আয় করার একটা বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বর্তমান বিশ্বে বহুত ব্যবসায়ী ও ডিজিটাল মার্কেটার এই ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে টাকা আয় করে সাবলম্বি হয়েছে। চলুন তাহলে আজকে আমরা জেনে নেই, কিভাবে ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করা যায়। আশা করি আমাদের সাথেই থাকবেন।

আরো পড়ুনঃ কিভাবে ফেইসবুক পেজ থেকে টাকা আয় করা যায়

ইন্সটাগ্রাম থেকে আয়

আজ আমরা ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করার ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি। চলুন শুরু করা যাক….

১. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বর্তমান টেক জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের মাধ্যম। আপনার ইন্সটাগ্রাম আইডিটা যদি অনেক জনপ্রিয় হয়, তাহলে আপনি আপনার আইডি থেকে বিভিন্ন পণ্যের প্রমোট করতে পারেন। যার ফলে আপনি ঐ পণ্য বিক্রয়ের একটা কমিশন পেয়ে যাবেন। আপনি এখানে অবৈধ কোন পণ্য বা ঔষধ ছাড়া, যেকোন ধরনের পণ্য প্রমোট করতে পারেন।

ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয়তা অর্জন করার জন্য একটু বেশি সময় দিন, তাহলে আপনার আয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকবে। আপনার লাইফ স্টাইলকে তুলে ধরতে পারেন বা টেক রিলেটেড কোন কিছু শেয়ার করতে পারেন। এছাড়া ফটোগ্রাফি, গ্রাফিক্স ডিজাইন বা ট্রাভেল রিলেটেড ভিডিও আপলোড করতে পারেন। তবে আপনাকে অবশ্যই গ্লোবাল প্লাটফ্রমে কাজ করার চিন্তা করতে হবে।

আপনি অনেক কোম্পানীর পণ্য প্রমোট করতে পারে, যারা তাদের পন্য প্রোমশনের জন্য অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু করেছে। এটা একটা বড় আয়ের মাধ্যম হতে পারে। সাধারণত এর জন্য আমেরিকা বা ইউরোপ টার্গের করে মার্কেটারগন কাজ করে থাকে।

কিভাবে অ্যাফিলিয়েট করে আয় করাবেন?

মনে করুন আপনি একটি মাইক্রো ওভেন কিনেছেন এবং সেটা থেকে আপনি রান্না করেন। এখন আপনি রান্নার করার সময়ের অথবা ওভেনের একটা ছবি দিতে পারেন। বর্ণনা হিসেবে লিখতে পারেন, আপনি ঐ পণ্যটি ব্যবহার করে সন্তুষ্ট। নিচে পণ্যটি কোথায় পাওয়া যাবে তার লিংক দিয়ে দিবেন। ফলে আপনার লিংক ব্যবহার করে যদি কেউ পণ্যটি ক্রয় করে, তাহলে আপনি ঐ পণ্যটি বিক্রয়ের একটা কমিশন পেয়ে যাবেন।

জনপ্রিয় কিছু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্লাটফর্ম হচ্ছে:

২. ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং করে আয়

ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং বিষয়টা হলো আপনার জনপ্রিয়তার উপর ভিত্তি করে আপনি আপনার অনুসারীদের কোন বিষয়ের উপর প্রভাবিত করা। অর্থাৎ আপনার ছবি বা ভিডিও দিয়ে অনলাইনে একটি শক্ত অবস্থান তৈরির মাধ্যমে আপনি ফলোয়ারদের ইনফ্লুয়েন্স করে আয় করতে পারেন। Influencer দ্বারা বিভিন্ন টপিক ট্রেন্ডে চলে আসে এবং জনপ্রিয়তা পায়।

আপনি যদি একজন ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে থাকেন তাহলে বিভিন্ন কোম্পানি আপনাকে তাদের পণ্য প্রমোট করার জন্য স্পন্সার করবে। এগুলো সাধারণত প্রডাক্ট রিভিউ টাইপের কন্টেন্ট হয়ে থাকে। এটা অনেকটা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মতোই। অনলাইনে Influencer দের বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে কোম্পানিগুলোর সেল অনেক বেড়ে যায়।

Influencer দের প্রথম কাজ হলো অফোয়ারদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা। পর্যাপ্ত ফলোয়ার হলে আপনি নিজেও স্পন্সার কোম্পানী খুজে নিতে পারেন।

Influencer গন পণ্য বিক্রয়ের কমিশন পায় না। তাদেরকে প্রতি পোস্টের জন্য স্পন্সার করা হয়। তারা প্রতি পোস্টের জন্য 50$ বা তারও বেশি চার্জ করে থাকে। ফলোয়ার বেশি থাকলে চার্জও বেশি হয়। তবে অর্থ আয় করতে গিয়ে যেন ফলোয়ারদের বিশ্বাসযোগ্যতা হাড়াতে না হয়। অবশ্যই ভালো প্রডাক্ট এর জন্য Influence করবেন।

আরো পড়ুনঃ অনলাইনে আয়ের সেরা ১০ টি পদ্ধতি

৩. নতুন ইউজারদের সাহায্য করা

আপনার যদি ইনস্টাগ্রামে অনেক ফলোয়ার থাকে বা আপনি খুব জনপ্রিয় হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি নতুন ইনস্টাগ্রাম ইউজারদের ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য সাহায্য করে আয় করতে পারেন। নতুন ইউজারগন তাদের ফলোয়ার ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য আপনাকে স্পন্সার করবে, ফলে আপনি একটা ভালো এমাউন্ট আয় করতে পারেন।

নতুন ইউজারগন অনেকেই এড প্রচার করা, স্পন্সারশিপ রিকোয়েস্ট দেওয়া বা ফলোয়ার বাড়ানোর উপায় জানে না। আপনি তাদের সেই বিষয়ে সাহায্য করে টাকা আয় করতে পারেন।

৪. ফটোগ্রাফি বা গ্রাফিক্স ডিজাইন বিক্রয় করে আয়

মূলত ইনস্টাগ্রাম হলো ছবিকে কেন্দ্র করেই কাজ করা হয়ে থাকে। তাই, এখানে ছবি বিক্রয় করে আপনি একটি ভালো ফিগার আয় করতে পারেন। এছাড়া বর্তমানে ফটোগ্রাফির বা গ্রাফিক্সের কাজের ডিজিটাল লাইসেন্স বিক্রয় করে অনলাইনে খুব সহজেই টাকা আয় করা যায়।

আপনি যদি ভালো ফটোগ্রাফি করতে পারেন বা গ্রাফিক্স এর কাজ যেমন, লোগো ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন কিংবা বইয়ের কভার ডিজাইন করতে পারেন, তাহলে আপনি এই জাতীয় কাজ বিক্রয় করতে পারেন।

এছাড়া এনিমেন ডিজাইন, ড্রইং বা পেইন্টিং তৈরি করেও বিক্রয় করতে পারেন। এগুলো আপনার আইডিতে শেয়ার করতে হবে এবং বিক্রয় করার পেইজে লিংক করে দিতে হবে। আপনার পোস্টে সঠিক ক্যাপশন ও বর্ণনা দিয়ে পোস্ট করলে, সহজেই পোস্টের ভিউ ও ইমপ্রেশন বেড়ে যাবে। ফলে আপনার আয় করাটা সহজ হবে।

ছবি, গ্রাফিক্স এর কাজ বিক্রি করার কিছু ওয়েবসাইট হলো:

Shutterstock
Adobe Stock
SmugMug
Dreamstime
Alamy

৫. নিজের পণ্য বিক্রি করা

ইন্সটাগ্রাম প্রফাইলের মাধ্যমে সহজেই নিজের পণ্য প্রোমোট করে ব্যবসায়ের প্রসার ঘটাতে পারেন। ব্যবসায়ের সার্ভিস বা পণ্যের ছবিকে মনোমুগ্ধকরভাবে সাজিয়ে ইন্সটাগ্রামে প্রদর্শন করতে পারে। ফলে আপনার আয় বেড়ে যাবে।

এছাড়া ইন্সটাগ্রামে শপ এর মাশ্যমে সরাসরি আপনার যেকোন পণ্য বিক্রয় করা সম্ভব। এছাড়া তথ্য দেখার জন্য পণ্যের লিংক যুক্ত করে দিতে পারে।

৬. ড্রপশিপিং এর মাধ্যমে আয়

ড্রাপশিপিং হলো একটি সহজ ও ঝামেলা বিহীন ব্যবসায়ের ধারণা। এর মাধ্যমে সহজেই বেশ ভালো এমাউন্ট আয় করা যায়। ড্রপশিপিং এ আপনাকে কোন পণ্য স্টোর করতে হবে না, বিক্রিত পণ্যের বর্ণনা সাপ্লায়ারকে জানিয়ে দিলেই, তারা কাস্টমারদের কাছে পণ্য পৌছে দিবে। এখানে আপনার কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না।

প্যাকেজিং কিংবা অন্যান্য ঝামেলা ছাড়াই বাড়িতে বসে নিশ্চিন্তে এই ব্যবসা করা যায়। তাই ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে আপনি ড্রপশিপিং এর ব্যবসা চালু করতে পারেন।

কিছু ড্রপশিপিং ওয়েবসাইট এর নাম হলো:

Amazon
AliExpress
Shopify

আরো পড়ুনঃ অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং- পাট 1

৭. জনপ্রিয় প্রোফাইল বিক্রি করে টাকা আয়

ইন্সটাগ্রামে আপনার জনপ্রিয় প্রোফাইল বিক্রয় করেও টাকা আয় করতে পারেন। এটা একটি সহজ আয়ের সিস্টেম। সঠিক প্লান করে কাজ করলে ও ভালো কন্টেন্ট তৈরি করতে পারলে সহজেই আপনি জনপ্রিয় প্রোফাইল বিক্রয় করে টাকা আয় করতে পারেন।

সঠিক পরিশ্রম করে ও সময় দিয়ে লাখ লাখ ফলোয়ারের আইডি তৈরি করতে পারেন, পরে সেই আইডি বিক্রয় করতে পারেন। এক লক্ষ ফলোয়ারের একটা আইডি 5000-10000$ পর্যন্ত দাম হতে পারে।

প্রফাইল বিক্রয় করে আয় করার জন্য আপনি আলাদাভাবে বিক্রয়ের জন্যই প্রফাইল তৈরি করবেন। মনে করুন আপনি ১০ টা ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইল তৈরি করলেন বিক্রয়ের জন্য। আপনি প্লান করে ভালো কোয়ালিটির কন্টেন্ট তৈরি করে 5/৬ মাসের মধ্যে প্রতি আইডিতে ১০-২০ হাজার ফলোয়ার তৈরি করেছেন। যার প্রতিটি আইডির মূল্য হবে 100-200$। এছাড়া কোন আইডি বেশি জনপ্রিয় হয়ে গেলে, আয়টা অনেকগুন বেড়ে যাবে।

প্রোফাইল বিক্রি করার ওয়েবাসাইটের নাম:

Fameswap.com
Playerup.com

উপসংহার

এই লেখাটিতে আমরা চেষ্টা করেছি ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করার গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিসমূহ নিয়ে আলোচনা করতে। আশা করি উপরে আলোচনাকৃত পদ্ধতিগুলো আপনাদের ভালো লাগবে। সঠিকভাবে কাজ করলে অনলাইনে বেশি ভালো ফিগার আয় করা সম্ভব।

বর্তমানে সোসাল মিডিয়াগুলো শুধু বিনোদনের জন্যই ব্যবহৃত হয় না, এর মার্ধমে অর্থ আয় করাও যায়। একটু সময় ও জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সহজেই ঘরে বসে টাকা আয় করতে পারেন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: