Home / Affiliate Marketing / অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রথম পর্ব – প্রথমিক ধারনা

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রথম পর্ব – প্রথমিক ধারনা

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কী?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো এমন একটি কাজ যার মাধ্যমে আপনি অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সেবা কিংবা পন্য দ্রাব্য ক্রেতার কাছে পৌছে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারলে আপনি একটি নির্দিষ্ট হারে কমিশন পাবেন।

অর্থাৎ, একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার এর কোন পন্য থাকে না। অন্য কোন প্রতিষ্টানের প্রডাক্ট, প্রতিষ্টানের নির্দেশনা ক্রমে বিক্রয় করার জন্য ক্রেতাদের উৎসাহী করে বিক্রয় নিশ্চিত করাই হলো মূল কাজ।

বর্তমান বিশ্বে অধিকাংশ মানুষ’ই অনলাইনের সেবা সামগ্রীর উপর নির্ভশীল। তা পন্য ক্রয় থেকে শুরু করে যাবতীয় সকল কাজ অনলাইনে’ই করতে চায়। ফলে, উৎপাদনকারী পন্য বিক্রয়ের জন্য অনলাইন মার্কেটের শরনাপন্ন হয়।

অন্যদিক, পন্য বিক্রয়ের জন্য অ্যাফিলিয়েট এর অনুমোদন দেওয়াটা হলোে উৎপাদনকারীর বিক্রয় প্রসার ঘটানোর একটি বিশেষ কৌশল মাত্র। যার মাধ্যমে পন্য অধিক হারে বিক্রয় লাভ করা সম্ভব।

অ্যামাজন কী এবং কেন?

অ্যামাজন হলো বিশ্বের প্রথম স্থান দখরকারী ই-কমার্স সাইট, যেখানে লক্ষাধিক পন্য দ্রাব্য ও সেবা সামগ্রী রয়েছে। মানুষের প্রতি দিনের ব্যবহারের সকল কিছুই এখানে লভ্য। অন্যদিকে, অ্যামাজন ও তাদের প্রডাক্ট বাজারজাতকরন এর জন্য অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট প্রগ্রাম চালু করেছে। আর প্রত্যেক অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারকে অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েট বলা হয়।

বর্তমানে অ্যামজনে পাওয়া যায় না এমন কোন প্রডাক্ট নাই। তাই আপনি সহজেই ওদের অসংখ্য পন্য থেকে আপনার সুবিধা অনুযায়ী পন্য নিয়ে কাজ করতে পারেন।

তাই বর্তমানে অ্যামাজন একটি সম্ভাবনাময় মার্কেট প্লেস। যেখানে আপনি আপনার পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই একটি স্থায়ী অবস্থান গঠন করতে পারেন।

অ্যামাজন পৃথিবীর বিখ্যাত ব্রান্ড গুলোর মধ্যে একটি। এখান থেকে পন্য ক্রয়ের জন্য মানুষে তেমন দিধা-দন্দে ভুগতে হয় না। কারো হয়রানী হওয়ার সম্ভান নাই। ফলে জনগন বিশ্বাসের সাথে পন্য ক্রয় করতে পারে। আর এর ব্যবসায়ের পরিধী এতটাই বড় যে, এর সেবা এখন প্রায় বিশ্বের সব দেশে ছড়িয়ে আছে। তাই অ্যামাজনকে যে কোন মানুষ সহজেই বিশ্বাস করতে পারে।

এছাড়াও, অ্যামাজনে আপনি কাজ করলে যে প্রডাক্ট নিয়েই কাজ করুন না কেন, আপনার প্রমোট লিংক থেকে অ্যামাজনে গিয়ে ক্রেতা যা কিনবে তার সব কিছুর উপর’ই আপনি কমিশন পাবেন। শুধু তাই নয়, ঐ দিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে ক্রেতা যে পন্য ক্রয় করবে, আপনি তার কমিশন পাবেন। অর্থাৎ আপনার রেফারাল লিংক থেকে কেহ অ্যামাজনে গিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সে যা ক্রয় করবে, অ্যামাজন আপনাকে তার উপর কমিশন প্রদান করবে। তাই বলতে পারি অনলাইন মার্কেটারদের জন্য অ্যামজন অ্যাফিলিয়েট প্রগ্রাম’ই সব থেকে ভাল ও লাভ জনক।

অ্যামজন কী হারে কমিশন দেয়?

অ্যামজনে কমিশনের হার অন্য সকল মার্কেট প্লেস থেকে কম। কিন্তু তার পরও অ্যামাজন হলো সব থেকে লাভ জনক। করণ অধিকাংশ মার্কেট প্লেসেই দেখা যায় যে, পন্য সেল কম হয়। অর্থাৎ, ট্রাফিক থাকা সত্যেও তেমন একাটা কনভার্সন হয় না। কিংবা হলেও, যে পন্যের জন্য মার্কেটার অ্যাফিলিয়েট করেছে সেই পন্য ছাড়া অন কোন পন্য বিক্রয়ের আশাও করা যায় না।

অন্যদিকে, অ্যামজন অ্যাফিলিয়েট প্রগ্রামে সঠিক ভাবে কাজ করতে পারবে ১০-১৫% পর্যন্ত কনভার্সন হতে পারে। সুতারাং এখানে কমিশন কম হলেও মার্কেটারদের কোন ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা নাই বরং লাভ জনক বটে।

অ্যামজান কমিশন লিস্ট এর চিত্র নিচে দেওয়া হলো

Amazon Commission list

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়ে মার্কেটিং কিভাবে করবেনে?

সাধরনত অ্যামজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য তিনটি পথ আছে। যেমন,

১। নিশ সাইট তৈরি করে

২। অ্যামাজন স্টোর তৈরি করে

৩। ইউটিউব ভিডিওর মাধ্যমে

নিচে প্রতেকটি মাধ্যম সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

১। নিশ সাইটঃ

নিশ সাইট বলতে, অ্যামাজনের যে কোন একটি প্রডাক্ট নিয়ে তার উপরে সেই প্রডাক্ট এর সকল তথ্য সম্বলিত একটি সাইট। যাহা অ্যামজনে ক্ষুদ্র একটি ক্যাটাগরির একটি প্রডাক্ট নিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে। উদাহরন স্বরূপ বলা যায়, কফি মেকার একটি নিশ। অর্থাৎ, হোম এন্ড গার্ডেন ক্যাটাগরি, কুকিং বিভাগের ছোট্ট একটি নিশ হলো, কফি মেকার।

ঠিক এভাবেই প্রত্যেকটি পন্যের উপর আলাদা আলাদা ওয়েব সাইটকে নিশ সাইট বলে। আর এই সাইটের মধ্যে কফি মেকার সম্পর্কে যাবতীয় সকল তথ্য থাকবে। এভাবে আপনি আপনার নিশ সাইটে অ্যামজন প্রডাক্ট এর লিংক দিয়ে প্রডাক্ট সেল করতে পারেন।

আর যদি একটু বড় ভাবে, মূল ক্যাটাগরি উপরে কোন সাইট তৈরি করে প্রাডাক্ট প্রমোট এর জন্য কাজ করা হয় তাকে, অথরেটি সাইট বলে। নিশ সাইট ও অথরেটি সাইটের কাজ এক’ই কিন্তু অথরেটি সাইটে অনেক প্রডাক্ট সম্পর্কে লেখা হয়। এটাকে মাল্টি নিশ ও বলা হয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় কারো মাল্টি নিশ নিয়ে কাজ করা উচিৎ নয়। কারণ, এই জাতীয় সাইট অনেক ব্যয় বহুল। এবং বহু আর্টিকেল পোস্ট করতে হয়।

অন্যদিকে, অথরেটি সাইটের সুবিধাও আছে। যেমন নিশ সাইটের ক্ষেত্র যদি সাইট র‌্যাংকিং করানো সম্ভব না হয়, তবে সকল প্লান’ই ব্যার্থতায় পরিনত হয়। আর অথরিটি সাইটে কোন না কোন প্রাডাক্ট এর মাধ্যমে সাইট র‌্যাংক করানো সম্ভব হবেই, আশা করা যায়।

২। অ্যামাজন স্টোর তৈরি করেঃ

অ্যামাজন স্টোর বলতে, অ্যামজন থেকে প্রডাক্ট নিয়ে আপনি নিজেই একটি ই-কমার্স সাইট তৈর করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি নিজেই একটি দোকান তৈরি করতে পারবেন, যেখানে অ্যামাজনের প্রডাক্ট বিক্রয় করতে পারবেন। অন্য সব ই-কামার্স সাইটের মত এখান থেকে মানুষ প্রডাক্ট ক্রয় করতে পারবে। শুধু পেমেন্ট এর জন্য তাকে অ্যামাজনের পেমেন্ড অপশনে যেতে হবে। সহজে বলা যায়, ক্রেতা আপনার সাইট থেকে পন্য ক্রয়ের জন্য সংগ্রহ করবে। এবং পেমেন্ট পেইজটি হবে অ্যামাজন এর। পন্য বিক্রয় হলেই আপনি আপনার কমিশন পেয়ে যাবেন।

মূলত, এটি একটি ব্যয় বহুল মার্কেটিং প্রক্রিয়া। যাহা প্রাথমিক অবস্থায় কারো পক্ষে করা সুফল বয়ে আনে না। কারণ, অ্যামাজন স্টোর এর জন্য পেইড ট্রাফিক নিয়ে কাজ করতে হয়। সুতারাং এই জাতীয় কাজ করতে হলে, তাকে পেইট ট্রাফিক এ কাজ করা দক্ষ মার্কেটার ছাড়া লাভ জনক নয়।

৩। ইউটিউব ভিডিওর মাধ্যমেঃ

ইউটিউব হলো বর্তমান বিশ্বের সব থেকে জনপ্রিয় সোসাল মিডিয়া। যাহার মাধ্যমে যে কোন ব্যাক্তি তাদের ভিডিও শেয়ার করতে পারে।

তাই, ইউটিউব ভিডিও এর মাধ্যমে ও অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা সম্ভব। এটা সাধারনত বাংলাদেশের মার্কেটারদের কাছে ততটা জনপ্রিয় না। তবে বিশ্বের অনেক দেশের লোকজন ইউটিউব ভিডিও এর মাধ্যমে মার্কেটিং করে আসছে। এটা বাংলাদেশে প্রধান্য না পাওয়ার কারণ হলো, ইউটিউব ভিডিও এর মাধ্যমে প্রডাক্ট প্রমোট করতে হবে সঠিক উচ্চারন সহ ভয়েজ দিয়ে কোয়ালিটি ফুল ভিডিও তৈরি করতে হয়। ভাল কোয়ালিটির ভিডিও তৈরি করতে না পারলে, ইউটিউব থেকে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা সম্ভব নয়।

আপনি কোন প্রক্রিয়ায় কাজ করবেন?

এক জন নতুন অনলাইন মার্কেটার হিসেবে কিংবা বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে, নিশ সাইট তৈরি করে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করাটাই সব থকে ভাল উপায়। এবং বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক লোক নিশ সাইট তৈরি করেই কাজ করতেছে।

সুতারাং আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, আমরা একটি নিশ সাইট তৈরি করে, অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে যাচ্ছি।

আর নিশ সাইট তৈর করা যেমন কম ব্যয়বহুল, তেমন রিস্ক কম থাকে। আমার এই প্রগ্রামের মাধ্যমেই নিশ সাইট তৈরি সব প্রক্রিয়া সমূহ আলোচনা করবো।

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট করে কী পরিমান আয় করা যায়?

সঠিক ভাবে পরিকল্পনা করতে পারলে এবং কাজ গুলো করতে পারলে, অনায়েসেই প্রতি মাসে কমপক্ষে ২০০-৩০০ ডলার আয় করা সম্ভব। এর পর অবস্থান বুঝে আপনি নিজে’ই বলতে পারবেন যে কী পরিমান আয় করা সম্ভব।

সমাপনীঃ

উপরের লেখাগুলোতে আমি অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর বিষয়ে প্রাথমিক কিছু ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি, সকলেই বুঝতে পেরেছেন।

এর পরবর্তী পর্বে আমি দেখাবো একটি সাইট করার জন্য কী কী কাজগুলো করতে হবে। অর্থাৎ আমাদের কাজ হবে নিশ সাইট তৈরি করে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা। তাই একটি নিশ সাইট তৈরির ধাপ সমূহ আলোচনা করবো।

About Md Arifur Rahman

5 comments

  1. Great post bro..keep it up.

    thank you.

  2. Md. Minhajul Haque

    আমি যে প্রোডাক্ট কে লক্ষ্য করে সাইট বানাবো, সেই প্রোডাক্টের সাথে যদি ওয়েব সাইটের নামের মিল না থাকে তবে তা সাইট র‍্যাঙ্কিং এর জন্য কতটা গুরুত্ব বহন করে? যেমন আমি যদি Ladies Bag নিয়ে সাইট করি কিন্তু ওয়েব সাইটের নাম হল abconlinestore.com, এরকম হলে কোন সমস্যা হবে?

    • মূলত, প্রডাক্টের নামের সাথে সাইটের নামের মিল না থাকলেও র‌্যাংকিং এর জন্য তেমন কোন সমস্যা হয় না। তবে, প্রডাক্ট এর সাথে নামের মিল থাকলে সাইটের মূল বিষয়বন্তু গ্রহাকদের কাছে সহজেই বোধগম্য হয়। সাইট র‌্যাংকিং এর জন্য মূখ্য ভূমিকা পালন করে আপনার আর্টিলেক, কিওয়ার্ড, মেটা ডেসক্রিপশন এছাড়াও এসইও তো আছেই। বিস্তারিত পরবর্তী আর্টিকেল গুলোতে থাকবে আশা করি।

  3. আপনার লেখাটি আমি মনযোগসহকারে পড়েছি, ধন্যাবাদ এমন একটি লেখার জন্য। পরবর্তী লেখার জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: